গীতবিতান

ভূমিকা

গীতবিতান যখন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল তখন সংকলন-কর্তারা সত্বরতার তাড়নায় গানগুলির মধ্যে বিষয়ানুক্রমিক শৃঙ্খলা বিধান করতে পারেন নি । তাতে কেবল যে ব্যবহারের পক্ষে বিঘ্ন হয়েছিল তা নয়, সাহিত্যের দিক থেকেও রসবোধের ক্ষতি করেছিল । সেইজন্যে এই সংস্করণে ভাবে অনুষঙ্গ রক্ষা করে গানগুলি সাজানো হয়েছে । এই উপায়ে, সুরের সহযোগিতা না পেলেও পাঠকেরা গীতিকাব্যরুপে এই গানগুলির অনুসরণ করতে পারবেন ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
[ভাদ্র ১৩৪৫]

নয়ন তোমারে

পূর্বেই বলিয়াছি একদিন আমার রচিত দুইটি পারমার্থিক কবিতা জীবনবাবুর নিকট শুনিয়া পিতৃদেব হাসিয়াছিলেন । তাহার পরে বড়ো বয়সে অন্য-একদিন আমি তাহার শোধ লইতে পারিয়াছিলাম । সেই কথাটা এখানে উল্লেখ করিতে ইচ্ছা করি ।

একবার মাঘোৎসবে [ মাঘ ১২৯৩ ] সকালে ও বিকালে আমি অনেকগুলি গান তৈরি করিয়াছিলাম । তাহার মধ্যে একটা গান - 'নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে ।'

পিতা তখন চুঁচুড়ায় ছিলেন । সেখানে আমার এবং জ্যোতিদাদার ডাক পড়িল । হারমোনিয়ামে জ্যোতিদাদাকে বসাইয়া আমাকে তিনি নূতন গান সব-ক'টি একে একে গাহিতে বলিলেন । কোনো কোনো গান দুবারও গাহিতে হইল ।

গান গাওয়া যখন শেষ হইল তখন তিনি বলিলেন, 'দেশের রাজা যদি দেশের ভাষা জানিত ও সাহিত্যের আদর বুঝিত, তবে কবিকে তো তাহারা পুরস্কার দিত । রাজার দিক হইতে যখন তাহার কোনো সম্ভাবনা নাই তখন আমাকেই সে কাজ করিতে হইবে ।' এই বলিয়া তিনি একখানি পাঁচ-শ টাকার চেক আমার হাতে দিলেন ।

-জীবনস্মৃতি । হিমালয়যাত্রা