আমি নিশি নিশি কত রচিব শয়ন আকুলনয়ন রে । কত নিতি নিতি বনে করিব যতনে কুসুমচয়ন রে । কত শারদ যামিনী হইবে বিফল, বসন্ত যাবে চলিয়া । কত উদিবে তপন, আশার স্বপন প্রভাতে যাইবে ছলিয়া । এই যৌবন কত রাখিব বাঁধিয়া, মরিব কাঁদিয়া রে । সেই চরণ পাইলে মরণ মাগিব সাধিয়া সাধিয়া রে । আমি কার পথ চাহি এ জনম বাহি, কার দরশন যাচি রে । যেন আসিবে বলিয়া কে গেছে চলিয়া, তাই আমি বসে আছি রে । তাই মালাটি গাঁথিয়া পরেছি মাথায়, নীলবাসে তনু ঢাকিয়া । তাই বিজন আলয়ে প্রদীপ জ্বালায়ে একেলা রয়েছি জাগিয়া । ওগো তাই কত নিশি চাঁদ ওঠে হাসি, তাই কেঁদে যায় প্রভাতে । ওগো তাই ফুলবনে মধুসমীরণে ফুটে ফুল কত শোভাতে । ওই বাঁশিস্বর তার আসে বারবার, সেই শুধু কেন আসে না । এই হৃদয়-াসন শূন্য পড়ে থাকে, কেঁদে মরে শুধু বাসনা । মিছে পরশিয়া কায় বায়ু বহে যায়, বহে যমুনার লহরী । কেন কুহু কুহু পিক কুহরিয়া ওঠে, যামিনী যে ওঠে শিহরী । ওগো, যদি নিশিশেযে আসে হেসে হেসে মোর হাসি আর রবে কি । এই জাগরণে-ক্ষীণ বদনমলিন আমারে হেরিয়া কবে কী । আমি সারা রজনীর গাঁথা মুলমারা প্রভাতে চরণে ঝরিব- ওগো, আছে সুশীতল যমুনার জল, দেখে তারে আমি মরিব ।।